ইরানের সব এয়ারলাইন বন্ধের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

 

ইরানের বিমানকে সেবা দিলে মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বাদ দেওয়ার হুমকি

ইরানের বিমানকে জ্বালানি, অবতরণসহ বিমানবন্দর সেবা কিংবা টিকিট বিক্রির মতো কোনো ধরনের সহযোগিতা করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে মার্কিন ডলারভিত্তিক লেনদেন ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করার হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের কোনো বিমান কোনো দেশে অবতরণ করলে তাদের জ্বালানি দেওয়া যাবে না, ল্যান্ডিং বা অবতরণ-সেবা দেওয়া যাবে না এবং তাদের টিকিটও বিক্রি করা যাবে না। এসব নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে যুক্তরাষ্ট্রের ডলার লেনদেন ব্যবস্থা থেকে বের করে দেওয়া হতে পারে।

ইরানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপের অংশ হিসেবে এ হুমকি দেওয়া হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে আগে নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকা ইরানি এয়ারলাইনস এবং দেশটির বিমান খাতকে সহযোগিতার অভিযোগে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়।

দীর্ঘদিনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের বিমান চলাচল খাত আগে থেকেই সংকটে রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার ফলে দেশটির এয়ারলাইনগুলোর নতুন উড়োজাহাজ কেনা, খুচরা যন্ত্রাংশ সংগ্রহ এবং রক্ষণাবেক্ষণ সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

ইরানকে আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে আরও বিচ্ছিন্ন করতে যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া বৃহত্তর নিষেধাজ্ঞা কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই নতুন পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় ইরানের সঙ্গে জ্বালানি, নৌপরিবহন, প্রযুক্তি, স্বর্ণ ও ডিজিটাল সম্পদসহ বিভিন্ন খাতে লেনদেনকারী বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

এদিকে, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকের আগে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন এই পদক্ষেপের কথা জানালেন বেসেন্ট। ইরানের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক সহযোগী ও কূটনৈতিক মিত্র চীন হওয়ায় তেহরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে বেইজিংয়ের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াশিংটন।

বেসেন্ট দাবি করেছেন, ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় চীনা কর্মকর্তারা ‘পুরোপুরি যুক্ত’ রয়েছেন। পিপলস ব্যাংক অব চায়নার গভর্নর প্যান গংশেংসহ চীনের শীর্ষ অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিবাচক আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।

তবে বেসেন্টের এসব বক্তব্য চীনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি। চীন দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তারা নিজেদের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবে। একই সঙ্গে কোনো দেশের বিরুদ্ধে একতরফা নিষেধাজ্ঞা আরোপেরও প্রকাশ্যে বিরোধিতা করে আসছে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

এমপি গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী পুলিশ হেফাজতে